নাজমুস সাকিব, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশীয় মাছের প্রজাতির বিলুপ্তি রোধ এবং দেশের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার সংরক্ষণ, গবেষণা ও আবাসস্থল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকন-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সরকার অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে।তিনি জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতির ওপর বিদ্যমান বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।মন্ত্রী বলেন, দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে এখন পর্যন্ত ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব অভয়াশ্রমের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯১ হেক্টর এলাকা, যা স্থানীয় উপকারভোগী দলগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।মূল্যবান জলজ সম্পদ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে হালদা নদী-এর নাজিরহাট সেতু থেকে হালদা-কর্ণফুলী মোহনা এবং কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার তিনটি উপজেলায় ১০টি স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ করা হচ্ছে।সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সরকার ‘অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।তিনি আরও বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর-এর নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিল নার্সারি স্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৯৪৭টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে।দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান তিনি।জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি হাওর জেলায় ৩০ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখা হয় বলেও জাতীয় সংসদে উল্লেখ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী।