শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম গল্লামারী ময়ূর নদের উপর পাশাপাশি দু’টি দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।তবে একটি সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হওয়ায় তিন মাস পর অর্থ্যাৎ আগামী সেপ্টেম্বরে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর সেতুটি চালু হতে আরো একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে খুলনাবাসীকে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ সংকটের কারণে খুলনার প্রবেশপথ ব্যস্ততম গল্লামারী ময়ূর নদের উপর পাশাপাশি দু’টি দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজের নির্মাণ কাজ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। তিন বছর ধরে ঝুলে থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খুলনাবাসী। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে খুলনাবাসী।ফলে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকল্পটি সরেজমিনে প্রর্দশন করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ফলে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে।আজ মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখাগেছে সেতুর স্টিল স্ট্রাকচার ইরেককশন বা সংযোগের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মেইন আর্চের সংযোগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেক স্ল্যাব ঢালাই এবং হ্যাঙ্গার স্থাপনের কাজের প্রস্তুতি চলছে জোরে সোরে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩৯ মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। প্রথম সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। আগস্টের মধ্যে বাকি ৩৫ শতাংশের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। এরপর সেপ্টেম্বরে খুলে দেয়া হবে যানবাহন চলাচলের জন্য। সূত্র আরো জানায়, প্রথম সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। সেতুটিতে মোট ২৮৭ খণ্ডাংশ স্টিল স্ট্রাকচার, ২৮ দশমিক ৬৮ টন নাট-বোল্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। স্টিলের স্ট্রাকচারগুলো খুবই উন্নত মানের। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। খণ্ডাংশ করার কাজ হয়েছে চট্টগ্রামের একটি ওয়ার্কশপে। সেখান থেকে যানবাহনে স্টিল স্ট্রাকচার আনা হয় গল্লামারি সেতুর ইয়ার্ডে।জানতে চাইলে সেতু বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, পাশাপাশি দু’টি দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়।চুক্তি অনুযায়ী দু’টি সেতুসহ ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সেতু দু’টির দৈর্ঘ্য ৬৮ দশমিক ৭ মিটার, প্রস্থ ২৩ মিটার এবং উচ্চতা হবে ৪ মিটার। সেতু দু’টি হবে দুই লেন বিশিষ্ট। কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতু দু’টি নির্মাণ কাজ ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩৯ মাসে শেষ হয়নি। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব আ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার যানবাহনের চালক এবং পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিনই যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ। নষ্ট হচ্ছে শ’ শ’ কর্মঘণ্টা।এদিকে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি সম্পন্নের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)।এ বিষয়ে খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, “নতুন ব্রিজ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ কারো কাজের অভিজ্ঞতা ছিলনা। অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। তাছাড়া অর্থসংকটও ছিল। তবে পরামর্শকদের সাথে পরামর্শ করে কাজগুলো করা হয়েছে। ব্রিজের হ্যাঙ্গার স্থাপনের জন্য চয়না বিশেষজ্ঞ টিম শীঘ্রই আসবেন। কাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। মেয়াদ বাড়লেও টাকার পরিমাণ বাড়বে না। কার্যাদেশের চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আশা করি খুবই সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন একটি ব্রিজ হবে। প্রথমটির কাজ শেষ হওয়ার পর পরই দ্বিতীয়টির কাজ শুরু হবে।