নাজমুস সাকিব, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার তালতলার পালকি কমিউনিটি সেন্টারে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং নবলোক পরিষদের বাস্তবায়নে Agro-Microenterprise Development Unit (AMDU) কর্মসূচির আওতায় মৎস্যখাত উন্নয়নে একটি আঞ্চলিক কারিগরি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় আয়োজিত কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নবলোক পরিষদের কর্মএলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং আধুনিক মৎস্যচাষ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা।আয়োজকরা জানান, AMDU কর্মসূচির আওতায় মৎস্যচাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ, ফলাফল প্রদর্শনী, প্রতিরূপায়ণ সভা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সফল করতে স্থানীয় মৎস্যখাত সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে নবলোক পরিষদ।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আরও যুগোপযোগী, কার্যকর ও টেকসইভাবে প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষক, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সভাপতিত্ব করেন নবলোক পরিষদ, খুলনার কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লিপ্টন সরদার এবং যশোরের স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম. এন. এস. মামুন সিদ্দিকী।এছাড়াও অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. হাবিবুর রহমান, নবলোক পরিষদের মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ কুমার মুস্তফী, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রসূন বিশ্বাস, সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আল মামুনসহ মৎস্যখাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।কর্মশালায় মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা, হ্যাচারি মালিক, মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী, অ্যাকুয়া-মেডিসিন বাজারজাতকারী, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকারী এবং রপ্তানিকারকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষের প্রসার ঘটবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের মৎস্যখাত টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।