মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিয়ে মানে ‘সাত জন্মের বন্ধন। সেই বন্ধনই মাত্র কয়েকদিনে ভেঙে গেল খুলনা নগরীর হরিনটানা থানাধীন হান্নান সড়কে। স্বামীর সংসার করা হলো না নববধূ মলি মল্লিকের। সালিশি মীমাংসায় ভরণপোষণ বাবদ ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে স্বামীর দাবি ছেড়ে দিলেন তিনি।বুধবার থেকে শ্বশুরবাড়ির সামনে মা-বাবাকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন মলি মল্লিক। অভিযোগ ছিল— পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বামী ডাক্তার ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস তাকে বাবার বাড়ি পাঠান। ফিরে এসে দেখেন বাড়ির দরজা বন্ধ। টানা ৩ দিন রাস্তায় অবস্থান, এলাকাবাসীর জড়ো হওয়া, পুলিশের হস্তক্ষেপ— সবশেষ আজ শালিক সোমবার ২৯ জুন সালিশি বৈঠকে বসেন দুই পরিবার ও স্থানীয় মুরুব্বিরা।সালিশে সিদ্ধান্ত হয়, স্বামী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস মলি মল্লিককে ভরণপোষণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩০ লাখ টাকা দেবেন। বিনিময়ে মলি মল্লিক স্বামীর সংসার ও যাবতীয় দাবি ছেড়ে দেবেন। চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ভাবে বিচ্ছেদের পথেই হাঁটছেন তারা।কান্নাজড়িত কণ্ঠে মলি মল্লিক বলেন, স্বামীর ঘরই মেয়েদের তীর্থ। সেই তীর্থের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ৩০ লাখ টাকা চাই না, সংসার চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর উপায় নেই।মলির মা-বাবা বলেন, মেয়েকে এভাবে রাস্তায় দেখে সহ্য করতে পারিনি। সালিশিরা যা ফয়সালা দিল, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মেনে নিলাম।স্থানীয় মুরুব্বি ও সনাতন সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনায় হতবাক। এক মুরুব্বি বলেন, আমাদের সমাজে ঝগড়া- মান অভিমান হয়, কিন্তু নতুন বউকে এভাবে দরজার বাইরে রেখে সালিশি করে টাকায় মীমাংসা— এটা সত্যিই বিরল। মেয়েটার জায়গা হওয়ার কথা ছিল স্বামীর ঘরে।হরিনটানা থানা পুলিশ জানায়, দুই পক্ষের সম্মতিতে সালিশি মীমাংসা হয়েছে। তারা আইনগত বিষয় দেখভাল করছে।এ ঘটনা খুলনার সনাতন সমাজে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকে বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্য ভাঙছে। আবার কেউ বলছেন, এটি নিছক পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝির চরম পরিণতি। সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী, বিয়ের পর মেয়ের শেষ আশ্রয় স্বামীর বাড়ি। মলি মল্লিকের জন্য সেই আশ্রয় ৩ দিনেই অনিশ্চিত হয়ে গেল। ৩০ লাখ টাকায় মীমাংসা হলেও ‘সাত জন্মের বন্ধন’ আর জোড়া লাগল না।এ বিষয়ে (মিডিয়া কর্মী) ও সমাজসেবক রূপসার মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মেয়েদের শেষ আশ্রয় যেন রাস্তা না হয়। পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে সমাজ ও পরিবারের বড়দের এগিয়ে আসা উচিত। সনাতন সমাজের ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।