মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন দক্ষিণ হরিনটানা এলাকা সোমবার সন্ধ্যায় পরিণত হয়েছিল এক আতঙ্কিত জনপদে। প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তথ্য সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার ২৯ জুন সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল দুইটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি অন্যান্য যানবাহনে করে দক্ষিণ হরিনটানা ঢালাই রোডের মাথায় প্রবেশ করে। তারা এলাকার একটি জনবহুল চায়ের দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। এরপরই হঠাৎ করে দলটির সদস্যরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ৫ থেকে ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। গুলির বিকট শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শোনার সাথে সাথেই রাস্তার দু’পাশের দোকানপাটের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় থাকা পথচারী, নারী, শিশু ও বয়স্করা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। যানবাহন চলাচলও মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যায়। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। গুলির শব্দে বুক কেঁপে উঠেছে। দোকান ফেলে সবাই দৌড়ে ঘরে ঢুকেছি।ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দলটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর মাঝে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দক্ষিণ হরিনটানার বাসিন্দারা জানান, আবাসিক ও জনবহুল এলাকায় এভাবে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণের ঘটনা তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, "দিনের বেলায়, জনসমাগমের জায়গায় এভাবে গুলি চালানো মানে হলো আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে নিরাপদে বাঁচতে চাই।এ বিষয়ে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘটনা খুলনা নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।