মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
পানির নিচে তলিয়ে গেল ৭ বছরের একটা স্বপ্ন। খুলনার রূপসা উপজেলার জয়পুর অচিনতলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সিজাদ ৭ আর নেই। বাবা মুরাদ শরীফের আদরের সন্তান, মায়ের কোলজুড়ে থাকা ছেলেটি গোসল করতে নেমে ফিরল লাশ হয়ে।এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২৮ জুন রবিবার দুপুরে জয়পুর অচিনতলা মাদ্রাসার ছাত্র সিজাদ পাশ্ববর্তী একটি মাছের ঘেরে গোসল করতে নামে। বয়স মাত্র ৭ বছর। পানির গভীরতা, স্রোত—কিছুই বোঝার বয়স হয়নি তার।কিছুক্ষণের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায় সিজাদ। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘেরে নেমে তাকে উদ্ধার করেন। নিথর দেহ নিয়ে ছুটে যান রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের বারান্দায় বাবা মুরাদ শরীফের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস।সিজাদ জয়পুর অচিনতলা মাদ্রাসায় পড়ত। কোরআন শিখছিল, মানুষের মতো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। বাবার ইচ্ছা ছিল—ছেলে আলেম হবে। সেই স্বপ্ন পানির নিচে তলিয়ে গেল।এলাকার এক শিক্ষক বলেন, “ছেলেটা খুব শান্ত ছিল। আজান দিলেই মাদ্রাসায় চলে আসত। কে জানত, দুপুরের গোসলই তার জীবনের শেষ গোসল হবে।সিজাদের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দেয়—বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল, ঘের, পুকুর শিশুদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অসাবধানতায় একটা পরিবার শেষ হয়ে যায়।স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, মাদ্রাসা-স্কুলে শিশুদের সাঁতার ও পানিতে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হোক। ঘের-পুকুরের পাড়ে বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।সিজাদের জানাজা জয়পুর গ্রামেই অনুষ্ঠিত হবে। কবর দেওয়া হবে পারিবারিক কবরস্থানে। ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশুটির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বাবা মুরাদ শরীফ শুধু বলছেন, “আব্বা, একটু ডাক দে...”আল্লাহ সিজাদকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন _ আমিন।