নাজমুস সাকিব, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে উদযাপন এবং শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, উপস্থাপনা দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের লক্ষ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিশ্বকাপ রম্য বিতর্ক প্রতিযোগিতা’। এবারের বিতর্কের বিষয় ছিল— “কাপটা এবার আমাদেরই ভাই, মাঠে বাকি দলের কোনো পাত্তা নাই! আমরাই গুরু, আমরাই বাপ, বিনা তর্কে দিয়ে দে বিশ্বকাপ!”বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতা বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজকরা প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি শুভকামনা জানান।এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বকাপের জনপ্রিয় চারটি দল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি ও ফ্রান্স এর নামে গঠিত চারটি বিতর্ক দল অংশগ্রহণ করে। দলগুলো ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে রসাত্মক, তথ্যসমৃদ্ধ ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন করে। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা, তীক্ষ্ণ যুক্তি এবং হাস্যরসাত্মক পাল্টা বক্তব্যে দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন এবং পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. মোঃ সালাউদ্দিন, যিনি দক্ষতার সঙ্গে পুরো বিতর্ক পরিচালনা করেন এবং প্রতিযোগিতার প্রাণবন্ত পরিবেশ বজায় রাখেন।তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উপভোগ্য বিতর্ক শেষে জার্মানি দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং ব্রাজিল দল রানার-আপ হয়। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টির ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী অতনু হাওলাদার এবং ভেটেরিনারি, এনিমেল ও বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস ফ্যাকাল্টির ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেন, নুসরাত আনজুম শৌখিন ও ইসরাত জাহান তাবিয়া।প্রতিযোগিতায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য মো. আরাফাত হোসেন এবং ইসরাত জাহান তাবিয়া যৌথভাবে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন। পরে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী রম্য বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজের মানসিকতা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের আনন্দকে ইতিবাচক ও শিক্ষণীয় উপায়ে উদযাপনের একটি অনন্য উদ্যোগ।ফুটবলপ্রেম, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এবং বিনোদনের এক অনন্য সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং খুকৃবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।