মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম
খুলনা মহানগরীর ডাক্তারপাড়া এলাকায় অবস্থিত নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি’ নামের একটি হেফজখানায় ৮ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ইসমাইল নামের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার এক শিক্ষক শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। নির্যাতনে শিশুটি আহত হলে বিষয়টি জানতে পেরে তার অভিভাবকরা দ্রুত মাদ্রাসায় ছুটে যান।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর শিশুটির বাবাকে মাদ্রাসা থেকে সন্তানের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নিয়ে বের হতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি তাকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।তবে ঘটনার পর শিশুটির বাবার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হননি। তার দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।কে বা কোন প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মিটমাট করেছে সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে চাননি। এমনকি সাংবাদিকদের শিশুটির সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ৮ বছর বয়সী একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়। তারা মনে করছেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়রা শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিভাবক কেন অভিযোগ করতে অনাগ্রহী বা কোনো চাপের মুখে রয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।অভিযোগের বিষয়ে ‘নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।