স্টাফ: রিপোর্টার পাইকগাছা:
১৪ জুন, পাইকগাছায় আলোচিত হাসান হত্যা মামলার ১ নং আসামি নাজমুল হুদা মিন্টু'র ছোট ভাই মোঃ মিলন ইসলাম ও ২ নং আসামি কুদ্দুস মোড়লের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে নিহত হাসানের পরিবার ও স্বজনদের নামে পাইকগাছা থানায় ২টি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।মঙ্গলবার (৯জুন) বিকেল ৫ টার দিকে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা সদর থানার খানজাহান আলী রোডের গ্লাসগো মোড় এলাকায় এস. এন্ড এ মোটরসের শোরুমে অভিযান চালিয়ে পাইকগাছা থানার হাসান হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত ১ নম্বর আসামি মোঃ নাজমুল হুদা মিন্টু (৩৭) কে গ্ৰেফতার করে।র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চাঁদখালী গরুর হাট এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে নাজমুল হুদাসহ কয়েকজন অভিযুক্ত দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, শাবল ও লোহার রড দিয়ে হাসান ওরফে কিং (৩৫)-কে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।হাসানকে বেধড়ক মারধরের পর মিন্টু ও তার লোকজন হাসানকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল মালেক সরদার বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ সহ ৮/১০ জন কে অজ্ঞাতনামা করে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে র্যাব প্রধান আসামি মিন্টুকে গ্ৰফতার করলেও পাইকগাছা থানা পুলিশ এখনো পর্যন্ত বাকি ৯ জন আসামির কাউকেই গ্ৰেফতার করেনি।নিহত হাসানের স্বজনদের দাবি,হাসানকে হত্যার খবর শুনে আমরা শোকাহত হয়ে পড়ি এবং আমরা লাশ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আমরা কেনো ভাঙচুর ও লুটপাট করবো?আসামিরা নিজেদের বাঁচাতে নিজেরা ভাঙচুর করে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে।তারা আরো অভিযোগ করেন, পাইকগাছা থানা পুলিশের সাথে মিন্টু'র দীর্ঘ দিনের সখ্যতা রয়েছে। পাইকগাছা থানার ৩/৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়মিত মিন্টুর অফিসে আড্ডা দিতো।পরিকল্পিত ভাবে হাসানকে হত্যার দিনও মিন্টু ফোন করে আগে থেকেই পুলিশ এনে রেখেছিলো।এবং হাসপাতালে পুলিশের উপস্থিতেই মিন্টু ও তার লোকজন পালিয়ে যায়।এছাড়াও হাসানকে হত্যার পর এটাকে গণপিটুনি দেখিয়ে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। মব সৃষ্টি করে হাসানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার হলে পুলিশ মামলা গ্ৰহণ করে।ওসির সাথে মিন্টু সখ্যতা থাকায় আসামীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম আমরা ন্যায়বিচার পাবো কিন্তু পুলিশ উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা মামলা গ্ৰহণ করে আমাদের হয়রানি করতেছে।হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে আর মিথ্যা মামলায় আমরা এখন ঘরে থাকতে পারছি না।এদিকে নিহত হাসানের পরিবার ও স্বজনদের নামে পাইকগাছা থানার ওসি কিবরিয়া পৃথক ২টি মিথ্যা মামলা গ্ৰহণ করায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।পাইকগাছা থানা পুলিশের এমন পক্ষপাতী আচারণের জন্য আলোচিত হাসান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।এবিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিবরিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।