নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ও পানতিতা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বছরের পর বছর কাদা-পানি, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দুর্ভোগের স্মৃতি পেছনে ফেলে এখন নতুন সম্ভাবনার পথে হাঁটছে হাজারো মানুষ। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে বহুদিনের প্রত্যাশিত সেই স্বপ্ন।বারাসাত শিকদার বাড়ি থেকে বিল অভিমুখে পানতিতা গ্রামের গাউস মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘদিন কোনো চলাচলযোগ্য রাস্তা না থাকায় স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে প্রথম উদ্যোগ নেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপি নেতা মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি এলাকাবাসী ও জমির মালিকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের পরিবেশ তৈরি করেন। তার উদ্যোগে দীর্ঘদিনের দাবিটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যায়।তবে রাস্তা নির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন স্থানীয় জমির মালিকরা। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তারা নিজেদের মূল্যবান জমি স্বেচ্ছায় রাস্তার জন্য ছেড়ে দেন। জমিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা টিপু মোল্লা, সমাজসেবক দেলোয়ার হোসেন দিলু, তাকিদুল মোল্লা, সাইফুল শিকদার, রসূল শেখ, রফিকুল সিকদার, নাজমুল শিকদার, কাকা সিকদার, লাবু শিকদার, লিয়াকাত শিকদার, শরিফুল শিকদার, মনু শিকদার, বাবুল শিকদার, রজব আলি সিকদার, ফারুক শেখ, মনি শেখ, ফরিদ মোল্লা, এবাদুল শেখ, কুদ্দুস শেখ, কচি মিনা, মিঠু মোল্লা, আলম শেখ, গাউস মোল্লা, খোকা শেখ, ফারুক শিকদার, মফিজ শিকদার, ইনাম মোল্লা, ইকবাল শিকদার, জিবুল শিকদার, বাচ্চু মল্লিকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি।স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব মানুষের জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের কারণেই বহু বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে রাস্তা নির্মাণের পথ সুগম হয়েছে।পরে বিষয়টি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালের নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন এবং রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন। এলাকাবাসীর মতে, তার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার ফলেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পাচ্ছে।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হানিফ শিকদার বলেন, “আমি সরেজমিনে রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেছি। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজ সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে চলছে। এটি সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যোগাযোগ সমস্যা দূর হবে এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”রাস্তার নামকরণ নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি নেতা টিপু মোল্লা রাস্তার নাম খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলালের নামে রাখার প্রস্তাব দেন। পরে এলাকাবাসী, জমিদাতা ও সংশ্লিষ্টদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে সেই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।বর্তমানে রাস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কাজ শেষ হলে বারাসাত ও পানতিতা এলাকার হাজারো কৃষক সহজে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছরের কষ্ট ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এ রাস্তা তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তারা খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং রাস্তার জন্য জমি দানকারী সকল ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়; বরং বারাসাত ও পানতিতা এলাকার কৃষি, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন ভিত্তি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাস্তবায়নের পথে থাকা এই রাস্তা এখন উন্নয়ন, জনস্বার্থে ত্যাগ এবং সামাজিক ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।