নিজস্ব প্রতিবেদক:
তেরখাদায় এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে একই দিনে কৃষি, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এক সুতোয় গেঁথে তুলে ধরা হয়েছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন। মাঠের কৃষক থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা থেকে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা—সবার অংশগ্রহণে শুক্রবার (১২ জুন) দিনভর মুখর ছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সম্মেলন কক্ষ।একদিকে কৃষি উৎপাদন, পুষ্টি ও উদ্যোক্তা বিকাশ নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস; অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনা তুলে ধরতে আয়োজিত হয়েছে বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী। দুটি আয়োজনের ভিন্নতা থাকলেও মূল বার্তা ছিল একটাই—জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।বিকেলে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন, নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রথাগত শিক্ষায় নয়, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী দক্ষতায়ও সমৃদ্ধ হতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। কৃষি, বিজ্ঞান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের সমন্বিত চর্চাই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীদের হাতে রয়েছে আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব। তাদের সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণামনস্কতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।”এদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে “মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” শীর্ষক বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীতে অংশ নেয় উপজেলার ১২টি মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পানি সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নসংক্রান্ত নানা প্রকল্প উপস্থাপন করছে। অনেক প্রকল্পেই স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।দর্শনার্থীদের ভিড়, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা এবং নতুন কিছু করার অদম্য প্রত্যয় পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে গবেষণা ও প্রযুক্তি চর্চায় আরও এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।দুই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. নুরুন্নবী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার, তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাধেশ্যাম ঘোষ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কওসার আলী, সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু এবং জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ।এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার সম্মিলিত উপস্থাপনায় তেরখাদার এ আয়োজন কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি হয়ে উঠেছে সম্ভাবনাময় নতুন প্রজন্মকে ঘিরে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণার মঞ্চ।