ডেস্ক :
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে চলমান বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘জোনাব বাহিনী’র তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবন অঞ্চলের সক্রিয় সকল বনদস্যু ও ডাকাত বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী জানতে পারে, কুখ্যাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন কালিঞ্চি সুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৬ টায় ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।আটককৃত ডাকাতরা হলো— আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬)। আটককৃত সকলেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার স্থায়ী বাসিন্দা। পরবর্তীতে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আটককৃত ডাকাতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, ওই দিনই রাত ১১ টায় শ্যামনগর থানাধীন হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকায় পুনরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ডাকাতদের লুকিয়ে রাখা ১টি একনলা বন্দুক ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি, সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কোস্ট গার্ডের এমন সফল ও কার্যকর অভিযানের ফলে স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সকল অপপ্রচার উপেক্ষা করে সুন্দরবনকে নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।