নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদায় বেপরোয়া গতির একটি সিএনজির ধাক্কায় সাবেক এক ইউপি সদস্য, তার মেয়ে ও নাতনি গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার খুলনা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন উপজেলার জয়সেনা এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আনিস ফকির (৪৮), তার মেয়ে মৌসুমী খাতুন (২৩) এবং নাতনি রোজা (৫)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ নাতনিকে চিকিৎসকের কাছে দেখানোর জন্য আনিস ফকির মোটরসাইকেলে করে মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে বঙ্গবন্ধু কলেজ এলাকার অদূরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং আরোহী তিনজন গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আনিস ফকির ও মৌসুমী খাতুনকে খুলনা সদর হাসপাতালে এবং শিশু রোজাকে খুলনা শিশু হাসপাতালে রেফার করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিএনজি চালক ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালিয়ে আসছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অসতর্ক ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তিনি সিএনজিটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “দুর্ঘটনার ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”স্থানীয়দের মতে, সড়কে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে যানবাহন চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।