ডেস্ক রিপোর্ট :
মযূর নদ খুলনা নগরীর পশ্চিম পাশ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়েছে। নদের ৫০-৬০ শতাংশ খুলনা নগরীর মধ্য দিয়ে গেছে। দখল-দূষণে অনেক আগেই নাব্যতা হারিয়েছে নগরের হৃৎপি- হিসেবে পরিচিত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মযূর নদ। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদের নাব্যতা ফেরাতে দুই দফা খনন কাজে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এছাড়া ৮২৩ কোটি টাকার আরও একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তবে অপরিকল্পিত খননের কারণে মযূর নদের নাব্যতা ফিরছে না বলে পরিবেশবিদরা অভিমত ব্যক্ত করেন । শুধু ৬ কিলোমিটার খননে কোন সুফল পাওয়া যায়নি, ফলে পুরো অর্থই অপচয় হচ্ছে । কেননা পানির স্রোত তৈরি না হওয়ায় ময়ূরনদ আবারো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে। অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিবেশ বিষয়ে অসচেতনতা, অপর্যাপ্ত পানিপ্রবাহে ময়ূর নদ এখন মৃতপ্রায় অবস্থা । বর্ষায় ময়ূরের মূলধারা প্রবাহিত পানির চাপ নিতে না পারায় পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আশির দশকে রূপসার আলুতলায় ১০ বেন্টের একটি জলকপাট নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মূলত তারপর থেকেই বিপন্ন হতে থাকে ময়ূর নদের অস্তিত্ব ।পরিবেশবিদরা জানান,রূপসা সেতুর কারণে রূপসা ও ভৈরব নদের নাব্যতা এমনভাবে কমেছে যে শহর নিচু হয়ে গেছে। ফলে জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি নামা তো দূরের কথা, বরং শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে শহরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ময়ূর নদের আংশিক নয়, ২১ কিলোমিটারই খনন প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্ষুদের খালসহ আশপাশের নদী-খালগুলোও সংস্কার করা প্রয়োজন।ময়ূর নদের সঙ্গে শহরের অধিকাংশ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা যুক্ত। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ২২টির বেশি নালার মুখ গিয়ে পড়েছে নদে। ফলে তলদেশে ময়লা জমে এক সময়ের খরস্রোতা নদটি পরিণত হয়েছে মরা খালে। নদের প্রাণ ফেরাতে প্রথম পর্যায়ে ২০১৪ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। যার কোন সুফল পাওয়া যায় নি।বাস্তবতা আলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ না করা, খননে অনিয়ম, অবৈধ দখল, পরিবেশ বিষয়ে অসচেতনতা, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকা, জবাবদিহির অভাবসহ নানা কারণে ময়ূর নদ খননে সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২১কিলোমিটারের মধ্যে শুধুমাএ ৬ কিলোমিটার খনন কাজে পুরো অর্থই অপচয় হয়েছে । সেজন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা মাফিক ময়ূর নদের ২১ কিলোমিটার পুরাপুরি খনন না করলে আগামীতে খুলনার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে এবং জলাবদ্ধতা আদৌ নিরসন হবে না । বিশ্ব পরিবেশ দিবসে খুলনার দীর্ঘদিনের এই সমস্যা টি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ পদক্ষেপ নিবেন এই প্রত্যাশা করছি।