নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলার ১ নম্বর আজগড়া ইউনিয়নের ১১ আমতলা জামে মসজিদে চুরির ঘটনা নিয়ে এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ থেকে চারটি সিলিং ফ্যান চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, মাদকাসক্ত বা অসাধু চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মসজিদে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে এসে বিষয়টি দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন।এলাকাবাসী জানান, মসজিদটির নিজস্ব কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস বা ওয়াকফ সম্পত্তি নেই। স্থানীয় মানুষের অনুদান ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রচণ্ড গরমে মুসল্লিদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন দাতার সহায়তায় ফ্যানগুলো স্থাপন করা হয়েছিল।মসজিদের মুসল্লি বসার মোল্লা, ইদ্রিস মোল্লা ও শোকর শেখ বলেন, “যে সমাজে আল্লাহর ঘরের সম্পদও নিরাপদ নয়, সে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় কতটা ভয়াবহ তা এ ঘটনাই প্রমাণ করে। মসজিদের ফ্যান চুরির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে।”এদিকে আজগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস মোল্লা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের অপরাধ শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক নৈতিকতার ওপরও আঘাত। যারা মসজিদের সম্পদ চুরি করতে পারে, তারা মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির পুলিশকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে সংঘটিত এমন নিন্দনীয় অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হবে।