মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
ঈদের আমেজে খুলনার জোড়াগেট পশুর হাট এবার ইতিহাস গড়লো। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে জমে ওঠা এই হাট থেকে রেকর্ড সংখ্যক কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশনের চূড়ান্ত হিসাব বলছে, এবার হাটে বিক্রি হয়েছে মোট ৬ হাজার ৮০টি পশু। আর এ থেকেই কেসিসির ঘরে জমা পড়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ২৩২ টাকা রাজস্ব।সংখ্যার পেছনের গল্পটাও চোখে পড়ার মতো। বিক্রি হওয়া পশুর মধ্যে গরুই সবচেয়ে বেশি - ৪ হাজার ৪৩টি। এরপর আছে ২ হাজার ২৭০টি ছাগল, ১৭৬টি ভেড়া। আর একটা মাত্র মহিষও নতুন মালিকের বাড়ি গেছে। চার শতাংশ হারে হাসিল কেটেই এই রাজস্ব আদায় করেছে সিটি করপোরেশন।কেসিসির আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুর হক জানালেন, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় পশুর হাট হিসেবে জোড়াগেটের সুনাম এবারও ধরে রাখলো। গত বছরের চেয়ে এবার পশু বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৩০টি। রাজস্বও বেড়েছে ৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বেশি। গত বছর হাটে পশু বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ৬৫১টি, আয় ছিল ২ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার টাকা।হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শেখ শফিকুল হাসান দিদার বললেন, "ঈদের আগের দুই দিন আর ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাটে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ক্রেতার চাপ সামলাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে।" চার শতাংশ হারে হাসিল আদায় এবারও বহাল ছিল।উল্লেখ্য, গত ২১ মে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু হাটের উদ্বোধন করেন। ২০০৯ সাল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট চালাচ্ছে কেসিসি। এবারও নিরাপত্তা ছিল কঠোর। ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবস্থা, পুলিশি পাহারা সবই ছিল চোখে পড়ার মতো।ফলে ঈদের আনন্দের সাথে খুলনাবাসী পেলো রেকর্ডের খুশি। জোড়াগেটের হাট আবারও প্রমাণ করলো - খুলনার মানুষ কোরবানিতে পিছিয়ে নেই।