নিজস্ব প্রতিবেক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ঈদুল আজহা ঘিরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বাজার। উপজেলার খামারগুলোতে এখন গরু, ছাগল ও ভেড়ার সমারোহ। খামারিদের ব্যস্ততা আর ক্রেতাদের আনাগোনায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে এলাকার ঐতিহ্যবাহী ইখড়ি পশুর হাট।উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর তেরখাদায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১২ হাজার ৫৮৫টি পশু। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৭৯টি গরু, ৭ হাজার ৪২৬টি ছাগল এবং ২৮০টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু রয়েছে। সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৫৭টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু অন্য এলাকাতেও সরবরাহ করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ঈদ সামনে রেখে প্রতি শুক্রবার বসা ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটে এখন বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। ভোর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও নসিমনে করে পশু নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের দাবি, খুলনা অঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট হিসেবে ইখড়ির সুনাম রয়েছে বহুদিন ধরে।ইখড়ি গরু-ছাগলের হাটের ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিল্টন হোসেন মুন্সী বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে হাটে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশুর জন্য আলাদা জায়গা, পানির ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য আগামী সোমবার বিশেষ হাটও বসবে।”উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের খামারি রসূল মোল্লা বলেন, “সারা বছর যত্নে পালন করা একটি গরু এক লাখ ৪৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। বাজারে দেশি গরুর চাহিদা অনেক ভালো।”পশু ব্যবসায়ী শাহিদুল তরফদার জানান, ঈদের সময় বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তিনি বিভিন্ন গ্রাম থেকে পশু সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। তাঁর মতে, এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয় ইখড়ি হাটে।ক্রেতা খান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি হাট ঘুরে অবশেষে পছন্দের একটি দেশি গরু কিনেছি। এবার ভালো মানের পশুর সরবরাহ বেশি।”তেরখাদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জুপি রানী সরকার বলেন, “কোরবানির পশু সুস্থ রাখতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধেও সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহ্মিনা সুলতানা নীলা বলেন, “পশুর হাটে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”