ডেস্ক :
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের বড় বোনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রীপরিষদ বৈঠক শেষে মিরপুরের পল্লবীতে নিহত শিশু রামিসার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি নিহত শিশু রামিসার বাবার কাঁধে হাত রেখে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।এ সময় নিহত শিশু রামিসা আক্তারের বড় বোনের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই অন্যায়ের সাথে যে জড়িত, তার বিচার আমরা আগে করতে চাই। এক সন্তানকে আল্লাহপাক নিয়ে গেছেন, আরেক সন্তান আপনাদের কাছে আছেন। ওর দিকে তাকিয়ে আপনাদেরকে শক্ত থাকতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে।’এদিকে রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন। রামিসার মা-বাবা এবং তার বড় বোন তারা উপস্থিত ছিলেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন রামিসার বড় বোন তার জীবনের সমস্ত পড়াশোনার খরচ এবং তার অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যয় সবকিছু উনি বহন করবেন এবং রামিসার মা-বাবা এবং রামিসার বড় বোনের জন্য একটা আশ্রয়স্থল তারা নিরাপদে আশ্বস্ত চেয়েছেন,সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সেটার ব্যবস্থাও করবেন।’প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকে।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর–১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো। যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতোমধ্যে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামিকে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড এবং স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি।আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।পরে দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান। বলেন, কীভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন, সোহেল তার জবানবন্দিতে তার বর্ণনা দিয়েছেন এবং ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন।পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩০ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।