মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম:
জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ হুরে জান্নাত। ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে রূপসা উপজেলা সরকারি দপ্তরসমূহের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে মানবিক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবার প্রতি আরও আস্থাশীল হবে। জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি দপ্তরসমূহকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশেষ করে ভূমি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা, দুর্নীতি বা বিলম্ব বরদাশত করা হবে না। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৎ ও নীতিবান হতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হয় সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অফিস কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় বেশি বৃক্ষরোপণ ও জলবায়ু সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।মতবিনিময় সভা শেষে তিনি দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি রূপসায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। একে একে তিনি রূপসা থানা পরিদর্শন করেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেন। পরিশেষে জেলা প্রশাসক পুটিমারি এলাকায় খাল খন কাজ পরিদর্শন করেন।মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সানজিদা রিকতা। এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, সহকারী কমিশনার জাহীন আবরার হিমেল, রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল হক কাউসার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. রাসেল,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএ আনোয়ারুল কুদ্দুস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, শেখ বোরহান উদ্দিন, হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা মদন কুমার দাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ডা. সুবীর দেবনাথ ও ডা. বিজন বিশ্বাস, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু প্রমুখ।