নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ৫ নম্বর তেরখাদা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা শেখ রাজু আহম্মেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, মামলা-হামলা ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি এবার ইউনিয়নবাসীর সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।শেখ রাজু আহম্মেদ বলেন, রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন। সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান।তিনি বলেন, “আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন পেলে ৫ নম্বর তেরখাদা সদর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই।”রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা তুলে ধরে শেখ রাজু আহম্মেদ জানান, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি হয়। পরে ২০০৬ সালে তিনি ৫ নম্বর তেরখাদা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।তার দাবি, ২০০৯ সালের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ২০১১ সালে তেরখাদা উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিনদিন পর তাকে ডিবি পুলিশ তুলে নেয়। সে সময় ছাত্রদলের তৎকালীন খুলনা জেলা সভাপতি কামরান হাসান ও সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েদ তাকে দেখতে ডিবি কার্যালয়ে যান।২০১৩ সালের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথমবারের মতো তাকে রাজনৈতিক মামলার আসামি করা হয়। ওই মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরবর্তীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তাকে হয়রানিমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।২০১৭ সালে কুমিরডাঙ্গা বাজারের একটি মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়। সে সময় ডিগ্রি পরীক্ষাও জেলখানায় বসে দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে ২০১৮ সালে খুলনা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই বছর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করায় আবারও পুলিশি হয়রানির শিকার হয়ে তাকে খুলনায় অবস্থান করতে হয়।২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শেখ রাজু আহম্মেদ বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ৫ আগস্টের গুলির চিহ্ন এখনো আমার চোখের নিচে রয়ে গেছে। আমি আজও সেই জুলাই আন্দোলনের একজন আহত যোদ্ধা।”বর্তমানে তিনি ৫ নম্বর তেরখাদা ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে তার প্রার্থিতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা দেখা গেছে। অনেকেই তাকে ত্যাগী, সাহসী ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে উল্লেখ করছেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন তিনি।