মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম:
খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নে দিনদুপুরে নয়, মাঝরাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে সংরক্ষিত আসনের এক ইউপি সদস্যের তিনটি গরু চুরি গেছে। এ ঘটনায় শুধু ভুক্তভোগী পরিবার নয়, পুরো ভবানীপুর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গবাদিপশু মালিকরা এখন রাতে পাহারা বসানোর কথা ভাবছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘাটভোগ ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায়। ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আইরিন আক্তার জানান, রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তার গোয়ালঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন গোয়ালঘর ফাঁকা।চুরি যাওয়া গরুগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সাদা রঙের গাভী, একটি লাল রঙের এঁড়ে বাছুর এবং একটি খয়েরি রঙের এঁড়ে বাছুর। আইরিন আক্তারের দাবি, গরু তিনটির বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো হবে। তিনি বলেন, “এই গরুগুলোই ছিল আমার সংসারের সম্বল। ঈদের পর দুধ বিক্রি আর বাছুর বড় করে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এক রাতে সব শেষ হয়ে গেল।ঘটনার পরপরই তিনি স্থানীয়দের জানান এবং রূপসা থানায় মৌখিক অভিযোগ দেন। আইরিন আক্তার বলেন, “যারা গরুগুলো দেখেছেন বা কোনো খোঁজ পেয়েছেন, দয়া করে আমাকে জানান। গরিব মানুষের শেষ সম্বলটুকুও যদি কেড়ে নেয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে ঘাটভোগ ও আশপাশের এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। রাতে পাহারা না থাকায় চোরচক্র সুযোগ নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “আগে শুনতাম দূরের গ্রামে চুরি হয়। এখন নিজেদের পাড়াতেই হচ্ছে। রাতে ঘুমানোই কঠিন হয়ে গেছে।রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। চোরচক্রকে ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। আশপাশের বাজার ও হাটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, রাতে টহল জোরদার করা হোক এবং চোরাই গরু বিক্রি রোধে হাটগুলোতে কঠোর তদারকি চালানো হোক। তারা মনে করেন, দ্রুত অপরাধীদের ধরা না গেলে চুরির ঘটনা আরও বাড়বে। ইউপি সদস্য আইরিন আক্তার শেষ কথা বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি হলেও আজ আমি একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে।