নিজস্ব প্রতিবেদক: সুন্দরবনের অভিযান চালিয়ে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ দুই দস্যুকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদস্যরা। এসময় ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৪ রাউন্ড গুলিসহ করিম শরিফ বাহিনীর হাতে মুক্তিপনের দাবীতে অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনীকে নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন”এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি অভিযান চলমান রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ডাকাত করিম শরিফ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ ২ সদস্যকে আটক করা হয়। রবিবার ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা পুর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এমন তথ্য আসে কোস্ট গার্ডের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল বনের গহীনে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ডাকাত মোঃ রবিউল শেখ (৩০) ও রাজন শরীফ (২০) কে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে মুক্তিপনের দাবীতে জিম্মি করা ৪ জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।আটক ডাকাতরা বাগেরহাট জেলার রামপাল থানা ও মোরলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। ডাকাত রাজন-শরীফ-করিম শরীফ বাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।উল্লেখ্য, আটক রাজন শরীফ এর বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা সহ ডাতাকি, জেলে অপহরন ও মুক্তিপনের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।কোস্ট গার্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া যতদিন পর্যন্ত সুন্দরবনের বন ও জলদস্যু নির্মুল না হবে, ততদিন পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত তাকবে বলেও জানায় কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা।