ডেস্ক রিপোর্ট: সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছেছে। রোববার (১৭ মে) ভোরে তার মরদেহ দেশে এসেছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এরপর একই দিন দ্বিতীয় জানাজা বাদ জোহর ধামরাইলের ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে এবং তৃতীয় জানাজা বাদ আসর শ্যামলী ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।সোমবার (১৮ মে) বেলা ১০টায় চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, পল্টনে। পরে পঞ্চম ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে তার জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কালমা স্কুল মাঠে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদার।গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পান এবং আসন্ন নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।মরহুমের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে। তার শৈশব কেটেছে কলকাতায় এবং পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ঔষধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।মিজান সিনহা ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে