মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম // খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ফিরোজ আহমেদকে নিয়ে ভাইরাল হলো একটি ভিডিও। সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ফেসবুকজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়, আর রাত পোহানোর আগেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এলো—দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি।মঙ্গলবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভেরিফায়েড পেজ থেকে ৩০ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ফিরোজ আহমেদকে করা হয় আহ্বায়ক। অভিনন্দন আর শুভেচ্ছার মধ্যেই বুধবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। ভিডিওতে ফিরোজকে আম খেতে খেতে ছুরি হাতে, মদ্যপ অবস্থায় ও অশালীন ভাষায় কথা বলতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।ভিডিও ছড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ফিরোজকে আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার জায়গায় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা নিয়ে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন এবং ফেসবুকে চলছে দুই ধরনের আলোচনা। এক পক্ষ বলছে, ভিডিওতে ফিরোজের আচরণ ও ভাষা সংগঠনের ভাবমূর্তির সঙ্গে যায় না। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সময়োপযোগী।আরেক পক্ষের দাবি, ভিডিওটি প্রেক্ষাপট ছাড়াই ছড়ানো হয়েছে। ফিরোজ বিভিন্ন সময় সামাজিক কাজের অংশ হিসেবে মজার ছলে পুরনো কাপড় বিক্রেতা, ফল বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা সেজে ভিডিও বানান। তাদের মতে এটিও তেমনই একটি “ফানি কনটেন্ট” যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো হয়েছে।ফিরোজ আহমেদ নিজে বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাজে যুক্ত। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করেন, লেখালেখি ও আবৃত্তি করেন। ভাইরাল ভিডিওটিকেও তিনি ফানি কনটেন্ট বলে দাবি করছেন। তার ভাষ্য, “একজন ছোট ভাই মজা করে এটা করেছে। এখন এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি জীবনে সিগারেটও ছুঁইনি, প্রয়োজনে ডোপ টেস্ট দিতে রাজি।এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে দলের সুনাম নষ্ট করার অভিযোগে নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক আহমেদ সোনাডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।ঘটনার পর খুলনা বিএনপির ভেতরে আলোচনা এখন একটাই—ভিডিওর আসল প্রেক্ষাপট যাচাই না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, নাকি শৃঙ্খলা রক্ষায় এটাই সঠিক পদক্ষেপ? সামাজিক মাধ্যমেও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে বিশ্লেষণ।