হামিদুল হক,রামু(কক্সবাজার)প্রতিনিধি: কক্সবাজারের ঈদগড় পাহাড়ি জনপদে বিভিন্ন সমিতি ও এনজিওর ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, ঋণের চাপ ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এলাকায় বিভিন্ন এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক সমিতির কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তির চাপে অনেকেই ঋণের জালে আটকে পড়েন। কৃষিকাজে লোকসান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।অনেক কৃষক জানান, জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়া এবং বাজারে পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা সময়মতো কিস্তি দিতে পারছেন না। কিস্তি বকেয়া হলে সমিতির চাপ, বাড়িতে বারবার তাগাদা এবং সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে এক সমিতির ঋণ শোধ করতে আরেক সমিতি থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করে এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হচ্ছেন।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পাহাড়ি অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ ভবিষ্যতে সামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তারা প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।