রাসেল আহমেদ: খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল-এর বাড়ির সামনে তখন উপচে পড়া ভিড়। সকাল পেরিয়ে দুপুর। প্রচণ্ড গরমে অনেকের শরীর ঘামে ভিজে গেছে। ছাউনির নিচে বসার জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু সেই দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেও মানুষের চোখে ছিল এক ধরনের ভরসা—আজ হয়তো তাদের সমস্যার কথা শোনার একজন মানুষকে পাওয়া যাবে।রূপসা, দিঘলিয়া ও তেরখাদার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনের মতো সেদিনও নানা সমস্যার কথা নিয়ে মানুষ এসেছিলেন সংসদ সদস্যের কাছে। কারও চিকিৎসা দরকার, কারও প্রশাসনিক জটিলতা, কারও পরিবার চালানোর সংকট। কেউ হাতে কাগজপত্র, কেউ আবার শুধু বুকভরা হতাশা নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই ভিড়ে।এর মধ্যেই উপস্থিত হন এক অসহায় মা। সঙ্গে তার বোন। কোলে ১৮ মাস বয়সী শিশু। জন্মের পর কয়েকদিন সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। তাকে নিতে হয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। সময়ের সঙ্গে পরিবার বুঝতে পারে, শিশুটি চোখে দেখতে পাচ্ছে না। সেই থেকে চিকিৎসা, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে কাটছে তাদের দিন।স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা আসেন সংসদ সদস্যের কাছে। শত মানুষের ভিড়ের মধ্যেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনেন আজিজুল বারী হেলাল। পুরো ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন তিনি। দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন। পরে পরিবারটির হাতে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন, যেন তারা বাড়ি ফিরতে পারেন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে।উপস্থিত অনেকেই বলছিলেন, শুধু সহায়তা নয়—একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আন্তরিক আচরণই এখন মানুষ সবচেয়ে বেশি খোঁজে।স্থানীয়দের দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মানুষের অভিযোগ, আবেদন আর দুঃখের কথা শুনতেই সময় পার করেন এই সংসদ সদস্য। বাড়ির সামনে সারি সারি প্লাস্টিকের চেয়ার। সামনে একটি সাধারণ টেবিল। সেখানেই বসে একের পর এক মানুষের কথা শুনে যান তিনি। নেই কোনো কঠোর প্রোটোকল, নেই অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা কিংবা দূরত্ব।অনেক সময় সরকারি কর্মসূচিতে যাওয়ার তাড়ার মধ্যেও গাড়িতে ওঠার আগে থেমে মানুষের কথা শুনতে দেখা যায় তাকে। কেউ সামনে এসে সমস্যা বললে আবার নেমে পড়েন আলোচনা করতে। প্রয়োজন হলে ফোন করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। কারও জন্য চিকিৎসা সহায়তা, কারও জন্য প্রশাসনিক সহযোগিতা—সবকিছুতেই চেষ্টা থাকে দ্রুত সমাধানের।বর্তমান সময়ে রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন অনাস্থা বাড়ছে, তখন সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন দৃশ্য এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্ন এক বার্তা দিচ্ছে। তাদের ভাষায়, জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয় বড় বড় বক্তব্যে নয়, মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকাশ পায়।আর সেই কারণেই খুলনার অনেক সাধারণ মানুষের কাছে আজিজুল বারী হেলাল এখন শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, বরং দুঃসময়ে পাশে পাওয়া যায়—এমন এক নির্ভরতার নাম।