চয়ন চৌধুরী/নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শেলী আক্তার (৫৫) নামে এক নারী পৈত্রিক রেকর্ডিয় জায়গা দখল করে জোরপূর্বক সরকারি রাস্তা নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিটক এ লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন।অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর ও কানুহারী গ্রামের সামনের চেঙ্গার বিল নামক হাওর থেকে এলাকার কৃষকের বোরো ধান কেটে বাড়িতে আনার জন্য ওই গ্রামের হিরণ মিয়ার বাড়ি হইতে কানুহারী হালট পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ করার লক্ষে ওই ইউপির ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের সদস্য মো. ওমর ফারুক এলাকাবাসীর স্বার্থে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি জমা দেন। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত কার্যালয় থেকে এ রাস্তা নির্মাণ কাজে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। উক্ত প্রকল্প কমিটিতে সভাপতি করা হয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুককে আর সদস্য সচিব করা হয় ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল হককে। তারা গত ৩-৪ দিন যাবত ওই রাস্তার কাজ শুরু করেন।কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকেই করাচাপুর গ্রামের বাসিন্দা শেলী আক্তার নামে ওই ভুক্তভোগী নারীর পৈত্রিক জায়গা জোরপূর্বক দখলে নিয়ে রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এসময় জায়গার মালিক শেলী আক্তারসহ বাড়ির লোকজন তাদেরকে বাধা দিলে প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব মঞ্জুরুল হক উল্টো তাদেরকে হুমকি দেওয়াসহ তাদের উপর চড়াও হন। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে শেলী আক্তার এ রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট এ লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন।ভুক্তভোগী নারী শেলী আক্তার বলেন, আমাদেরকে না জানিয়েই মঞ্জুরুল হকসহ তার লোকজন আমাদের পৈত্রিক রেকর্ডিয় বাড়ির জায়গা জোরপূর্বক দখলে নিয়ে তারা রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমরা তাদেরকে বাধা দিলে উল্টো তারা আমাদের উপর চড়াও হয় এবং আমার জায়গা দিয়েই জোর করে রাস্তার কাজ করবে বলে হুমকি দেয়।ইউপি সদস্য ওমর ফারুক বলেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে ওই রাস্তায় সরকারি বরাদ্দে এর আগে আরও একাধিকবার মাটি কেটে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে রাস্তার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান মৃধা বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে এ রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে প্রকল্পের সভাপতিকে বলে দিয়েছি।অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টির সমাধান না করা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য আমি পিআইও'কে বলে দিয়েছি।
চয়ন চৌধুরী
০১৭১৮-৭৫৫৭৭১
১৯-০৩-২০২৫ ইং।