কক্সবাজার প্রতিনিধি: ইউনিয়ন মাইগ্রেশন ফোরাম এবং বিরোধ ব্যবস্থাপনা কমিটির (জিএমসি) সদস্যদের নিয়ে 'জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিতকরণে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ' অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ট্রেনদেনথ্ এন্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস্) দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'প্রত্যাশী'র বাস্তবায়নে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা 'হেলভেটাস বাংলাদেশ' এর কারিগরি সহায়তায় কক্সবাজারের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে ১১ মে সোমবার এর আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জড়িত রয়েছে ওকাপ, রামরু এবং সিসিডিএ । প্রকল্পের অধীন অভিবাসীদের জন্য মানবাধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুশীলনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর (নারী ও পুরুষ) সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে সিমস্ প্রকল্প।প্রকল্পটি নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক তথ্য প্রদানের জন্য কর্ম এলাকায় ব্যাপক হারে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করছে, যাতে অভিবাসীরা চাহিদা মাফিক ও সঠিক তথ্য পেয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা যেন আইনী সহায়তা ও পরামর্শ পান এবং সঠিক উপায়ে রেমিটেন্স ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ উদ্বোধন উপলক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন সিমস্ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং জেলা সমন্বয়কারী রশিদা খাতুন।সমান সুযোগ সমান অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন আমাদের অঙ্গীকার'-এ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশিক্ষণের শুরুতে সংস্থা ও প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরেন প্রকল্পের কর্মকর্তা তৌহিদা জান্নাত শিমু। পরে জিএমসি এবং ফোরামের দায়িত্বাবলী আলোচনা ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন প্রজেক্ট অফিসার, সিমস্ প্রকল্প, প্রত্যাশী। জেন্ডার সম্পর্কিত ধারণা, সেক্স ও জেন্ডারের মধ্যে পার্থক্য এবং জিএমসি/ফোরাম সদস্যদের জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন প্রত্যাশীর হেড অফিসের জেন্ডার ফোকাল পয়েন্ট এবং প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুবর্ণা সেলিম।প্রশিক্ষণে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কাজের উদ্দেশ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন এবং দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। তবে বিদেশ যাওয়ার সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যের ঘাটতি এবং যথাযথ নিয়ম না জানার কারণে বিদেশ যাওয়ার আগে ও যাওয়ার সময় অভিবাসী কর্মীরা প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। তাই বিদেশ যেতে চাইলে সরকার নির্দেশিত নিয়ম কানুন মেনে বিদেশে যান, তবেই অভিবাসন নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও লাভজনক হবে। এক্ষেত্রে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ নিন।প্রশিক্ষণে রশিদ নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম ও বরইতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ছালেকুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ রেজাউল করিম সহ ২৮ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন।