মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম // খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল সাহিত্যিক নন, বরং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ভাবনারও একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর কৃষিজ্ঞান ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। রোববার (১০ মে) খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র সংগ্রহশালায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষিকে শুধু জীবিকার মাধ্যম হিসেবে দেখেননি। এটিকে সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি মনে করতেন, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, "আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ এবং কৃষি শিক্ষার বিস্তারকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাঁর কৃষি দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।স্মারক বক্তা মাধ্যমিক ও শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস আর রেজা বলেন, "মাত্র ১৯ বছর বয়সে পারিবারিক ভূ-সম্পত্তির দায়িত্ব নিয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রচলিত জমিদারি মানসিকতা থেকে সরে আসেন। তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রিক ধারা অনুসরণ না করে নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে স্থাপন করেন। কৃষকের জীবন, কৃষি অর্থনীতি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন তাঁর চিন্তায় গভীরভাবে প্রভাব ফেলে।পৈতৃক সম্পত্তিকে তিনি কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর লেখনী ও কর্মে কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব স্পষ্ট," যোগ করেন তিনি।রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজ কানিজ ফাতেমা লিজা। স্বাগত বক্তব্য দেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম। বক্তব্য দেন রূপসা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬তম বংশধর মানিক লাল কুশারীর সহধর্মিণী ছায়া রানী কুশারী, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, পিঠাভোগ ডিজিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাহীন আবরার হিমেল, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মোহাম্মদ রহমত উল্যাহ, রাফসান যানি, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রকৌশলী শোভন সরকার, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. আবুল কাশেম, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ বোরহান উদ্দিন,রূপসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা লবিবুল ইসলাম, প্রকৌশলী সুখেন রায়, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, সরোজ কুমার হালদার, এ্যাড. সুশীল পাল, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত মহলী, খুলনা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমুদ্দিন, রবী ঠাকুরের বংশধর গোপাল কুশারী, জামায়াতে ইসলামী নেতা হাফেজ মাও. জাহাঙ্গীর ফকির প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, একাডেমিক সুপার ভাইজার নিত্যানন্দ মণ্ডল এবং রূপসা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন।