ডেস্ক :
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী রহস্য আছে, তা জানতে সর্বাত্মক তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। কালবেলার গাজীপুর প্রতিনিধি সকাল থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে আশপাশের অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে নানা ধরনের তথ্য পেয়েছেন। কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ফোরকান নিজের পরকীয়া লুকাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। নিজের স্ত্রীকে ফাঁসাতে তার নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২টি সাধারণ ডায়েরিও করেনফোরকানের ঘনিষ্ঠজনরা কালবেলাকে জানিয়েছেন, পেশায় ট্রাকচালক ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আগে থেকেই মাদকাসক্ত। ট্রাক চালানোর জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরতে হয় তাকে। এভাবে কোথাও পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন অথবা গোপনে বিয়েও করে থাকতে পারেন।এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত ফোরকান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে হত্যার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অপরদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। ফোরকান ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। সেই বিরোধের জেরেই তিনি স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ফোরকান মোবাইলে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানিয়েছেন— তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।