মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম- স্টাফ রিপোর্টার//
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হতে যাচ্ছে রূপসায়। উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পিঠাভোগ গ্রামে কবিগুরুর পূর্বপুরুষের আদি ভিটা রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা প্রাঙ্গণে আগামী ২৫শে বৈশাখ, ৮ মে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তিনদিনব্যাপী উৎসব। ৮, ৯ ও ১০ মে পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ নানা কার্যক্রম।
এই আয়োজন সফল করতে সোমবার সকালে রূপসা উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা।
ইউএনও সানজিদা রিকতা বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাঙালি জাতির গর্বই নন, তিনি বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জন্মবার্ষিকী শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, পিঠাভোগের এই ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে আমরা একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত আয়োজন নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য সকল প্রশাসনিক দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, যানবাহন চলাচল, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানটি যেন সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ইউএনও।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিব প্রামাণিক, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ বোরহানউদ্দিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম খান।
এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর এহতেশামুল হক, সহকারী প্রোগ্রামার ইমরান হোসেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ রানা, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, অধ্যক্ষ অজিত সরকার, হিল্লোল মুখার্জি, ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মিকাইল বিশ্বাস, ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু।
উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী সুখেন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর গোপাল চন্দ্র কুশারী, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিমুদ্দিন, প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়, যশোমন্ত ধর, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন, অ্যাডভোকেট সুশীল কুমার পাল, প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত মহলি, শিক্ষক নৃপেন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. মালেক, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, স্বপ্না রানী পাল, ওবায়েদ ফরাজী, ধ্রুব দাস, চন্দন রায়সহ অনেকে।
তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে পিঠাভোগের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ।
রবীন্দ্র সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটক ও আলোচনা সভার মাধ্যমে কবিগুরুকে স্মরণ করা হবে। পিঠাভোগ গ্রামে রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষদের ভিটা থাকায় স্থানটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর ২৫শে বৈশাখ এখানে দেশ-বিদেশের রবীন্দ্র অনুরাগীরা ভিড় করেন।