ডেস্ক রিপোর্ট :
৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সাংবাদিক, সংবাদকর্মী এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁদের অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “একটি রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সমাজের দর্পণ। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম ছাড়া আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের সাহসী ও দায়িত্বশীল অবস্থান সমাজকে আলোর পথ দেখায়।দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বিগত সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এদেশের সাংবাদিকদের নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশের পথে বিভিন্ন কালাকানুন ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। অনেক নির্ভীক সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং অসংখ্য সংবাদকর্মী কারাবরণ করেছেন। পাশাপাশি চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সম্মানজনক বেতন কাঠামো না থাকায় একদিকে যেমন গণমাধ্যমকর্মীরা নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না, অন্যদিকে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে। আমরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন এবং সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।আমরা বিশ্বাস করি, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা এবং তথ্য সংগ্রহের অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বলাই বাহুল্য, আজও দেশের গণমাধ্যম পূর্ণমাত্রায় স্বাধীন হতে পারেনি। সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন আজও চলমান রয়েছে, যা একটি স্বাধীন দেশের জন্য কাম্য নয়।”পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, যেখানে গণমাধ্যম কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সাধারণ মানুষের কথা বলতে পারবে। আমরা সাংবাদিক সমাজকে পেশাগত নৈতিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমই হতে পারে সমাজ সংস্কারের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার।”