মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম - স্টাফ রিপোর্টার//খুলনার রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন ঘাটভোগ ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা শুক্লা খাঁ। একই সঙ্গে তিনি ঘাটভোগ ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। শিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা শুক্লা খাঁ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী নেতৃত্বে শুক্লা খাঁ ঘাটভোগ ইউনিয়নে পরিচিত মুখ। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ব্যানারে তিনি নারী অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নারীদের সংগঠিত করে সেলাই প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করছেন।পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদিকা হিসেবে তিনি গত কয়েক বছর ধরে শিয়ালী, ঘাটভোগসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ভূমিকা রাখছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসব ও সামাজিক কার্যক্রমে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে।এ বিষয়ে শুক্লা খাঁ বলেন, আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নারী-পুরুষ সবার সেবা করতে চাই। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নারী উদ্যোক্তা তৈরি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের নিরাপত্তা জোরদার করব।তিনি আরও বলেন, রূপসা উপজেলার নদীভাঙন কবলিত এলাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের পুনর্বাসন, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ডের স্বচ্ছ বিতরণ এবং মাতৃকালীন ভাতা প্রাপ্তিতে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে কাজ করব।শিয়ালী গ্রামের গৃহবধূ রাধা রানী বলেন, শুক্লা দিদি আমাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ান। পূজার সময় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব আয়োজন করেন। তিনি নেতা হলে আমাদের কথা বলার জায়গা হবে।ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপি এক নেতা বলেন, শুক্লা খাঁ তৃণমূলের পরীক্ষিত নেত্রী। দলের দুঃসময়ে তিনি নারীদের সংগঠিত রেখেছেন। মামলা হামলা উপেক্ষা করে রাজনীতির মাঠে ছিলেন। তার গ্রহণযোগ্যতা সব মহলে আছে।রূপসা উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আহ্বায়ক শাহনাজ পারভীন বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা দলীয় প্রতীকে যাচ্ছি না। তবে যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রীদের আমরা নৈতিক সমর্থন দেব। শুক্লা খাঁ একজন ক্লিন ইমেজের নেত্রী। তৃণমূলের সমর্থন তার সঙ্গে আছে।রূপসা উপজেলা একটি কৃষি ও মৎস্যপ্রধান এলাকা। এখানে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। কিন্তু মজুরি বৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবার অভাব ও বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা রয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদে একজন সক্রিয় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকলে নারীদের সমস্যা সরাসরি তুলে ধরা সহজ হয়। শুক্লা খাঁ দীর্ঘদিন সামাজিক কাজে যুক্ত। তিনি নির্বাচিত হলে নারী উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী জুনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। শুক্লা খাঁ জানান, তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। নারী ভোটারদের সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।শেষ পর্যন্ত রূপসা উপজেলার ভোটাররা কাকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেন, সেটি জানতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।