নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, খালিশপুর রোটারী স্কুলকে খুলনার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, আমি এই স্কুলেরই সন্তান, এই স্কুলেরই প্রাক্তণ ছাত্র। তাই স্কুলের উন্নয়নের জন্য আলাদা করে দাবি করার প্রয়োজন নেই। স্কুলের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে আমার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।শনিবার খালিশপুর রোটারি স্কুলের ৪৮তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আইরিন পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ছায়েদুর রহমান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ খুলনা বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান এবং খানজাহান আলী থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ রুমানাই ইয়াসমিন।বিদ্যালয়টির আধুনিকায়ন ও শিক্ষার পরিধি বিস্তারে হুইপ বকুল বলেন, অচিরেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী আগামী বছর থেকেই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া শিক্ষার মান ডিজিটাল স্তরে উন্নীত করতে স্কুলে দ্রুত ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন এবং একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার প্রতিশ্র“তি দেন। মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীদের যাতে অন্য কোথাও যেতে না হয়, সেজন্য পাঠদান কার্যক্রম এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত উন্নীত করার আশ্বাস দেন তিনি।শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধে কঠোর বার্তা দিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, শিক্ষকদের বাইরে প্রাইভেট পড়ানোর মানসিকতা কমিয়ে আনতে হবে। কোচিং সেন্টার নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব অভিভাবকের আর্থিক সক্ষমতা এক নয়। কোচিংয়ের চাপে যেন কোনো মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে ক্লাসেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সকল ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা করার ঘোষণাও দেন তিনি।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হুইপ বকুল আরও বলেন, কেবল পাঠ্যবইয়ের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমানভাবে পারদর্শী হতে হবে। খালিশপুর রোটারি স্কুলকে খুলনার জেলা পর্যায়ে সকল ক্ষেত্রে এক নম্বর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আহŸান জানান।অনুষ্ঠানে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।