ডেস্ক :
জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে আবারও মাছ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। মধ্যরাত থেকে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে চষে বেড়াচ্ছেন জেলেরা।তবে প্রথম দিনে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলেরা।শুক্রবার (১ মে) সকাল থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন পর ইলিশের পাইকারি কেনাবেচা শুরু হয়।ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। এতদিন ঝিমিয়ে থাকা মাছঘাট আবারও হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে।তবে মাছের আমদানি কম।এদিকে দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার হরিণা ইলিশের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে নীরবতা।ইলিশসহ অন্যান্য কোনো মাছ নেই। বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন।এই আড়তের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, সকাল থেকে আড়তে বসে আছি। ইলিশ নেই, পাশাপাশি অন্য কোনো মাছ পাচ্ছে না জেলেরা।একই আড়তের অপর মাছ ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম অভিযোগ করে বলেন, এবার অনেক জেলে জাটকা ধরে বিক্রি করেছে। নদীতে অভিযান থাকলেও সড়ক পথে কোনো অভিযান দেয়নি প্রশাসন। এখন জেলেরা নদীতে নেমেও ফিরছে খালি হাতে।অপরদিকে চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ নিয়ে আসা জেলে শেখ ফরিদ ও ইয়াছিন বলেন, দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মধ্যরাতে ইলিশ ধরতে নদীতে নামি। কিন্তু জাল ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেমন মাছ পাইনি।তারা বলেন, এখন যদি মাছ না পাই ধারদেনা কিস্তি পরিশোধ করতে কষ্ট হয়ে যাবে।তবে সামনে আরও বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লে ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান এই জেলেরা।ঢাকা থেকে আসা ক্রেতা আশিকুর রহমান নাঈম বলেন, ছুটির দিন থাকায় চাঁদপুরে ঘুরতে এসেছি। মাছঘাটে ইলিশ খুব কম এসেছে। পুরো ঘাট ঘুরে ইলিশ কিনতে পারছি না, কারণ অনেক দাম।ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের নিচের ইলিশ আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার। তারা আশা করছেন ধীরে ধীরে নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমবে।চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, দুই মাস নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা জেলেদের জাটকা ধরার সুযোগ দেইনি। জাটকা বড় হলে ইলিশে রূপান্তর হবে। এখন ইলিশ কম পাওয়া গেলেও ধীরে ধীরে এর সুফল এখানকার জেলেরা পাবে।