ডেস্ক :
আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক দিন।১৮৮৬ সালের এই দিনে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই ত্যাগের বিনিময়ে আজ বিশ্বজুড়ে শ্রমিকরা মর্যাদাপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখে।মে দিবসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবের আমেজটুকু এখনো পৌঁছায়নি কঠোর পরিশ্রমে ব্যস্ত এই মানুষগুলোর কাছে।মে দিবসের আগের দিনও কামারশালায় বিরামহীন ব্যস্ততা।তৈরি হচ্ছে গৃহস্থালির সরঞ্জাম। লোহার তপ্ত হলকায় শ্রমিকের ঘাম মিশে যাচ্ছে সজোরে চালানো হাতুড়িতে।স’মিল বা কাঠের আড়তগুলোতে দেখা যায় হাড়ভাঙা খাটুনি। বিশাল ওজনের কাঠের গুঁড়ি কাঁধে নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। একেকটি পদক্ষেপ যেন বেঁচে থাকার নিরন্তর লড়াই। তাদের কাছে মে দিবস মানে কেবল ক্যালেন্ডারের লাল তারিখ, কাজের বিরতি নয়।পরিবহন খাতের ওয়ার্কশপগুলোতেও একই চিত্র। পুরোনো লক্কর-ঝক্কর বাসকে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করতে দিন-রাত এক করে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। গ্রাইন্ডিং মেশিনের শব্দ আর লোহার ঘর্ষণে সৃষ্ট আগুনের ফুলকায় ঢাকা পড়ে যায় তাদের শ্রমের অধিকারের দাবিগুলো।জীবনের চাকা সচল রাখতে কয়েকশ কেজি কাগজের বান্ডিল একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এক শ্রমিক, যার কাছে মে দিবসের চেয়েও জরুরি পরিবারের একবেলার আহার।নির্মাণ কাজের ভারী মিক্সার মেশিন ঠেলে গন্তব্যে নিচ্ছেন শ্রমিকরা। ঘাম ভেজা শরীরে আগামীর অট্টালিকা গড়ার স্বপ্ন। দেশের উন্নয়নে যাদের ঘাম রাজপথ থেকে অট্টালিকায় মিশে থাকে, সেই শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটানোই হোক এবারের মে দিবসের অঙ্গীকার।সকাল থেকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বল গেট থেকে বালু উত্তোলন করছেন শ্রমিকরা। কিন্তু তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না।মে দিবস কেবল একটি সরকারি ছুটির দিন নয়, এটি অধিকারের শপথ নেওয়ার দিন। শ্রমিকের মর্যাদা আর ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হলেই সার্থক হবে এই দিবস।