নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় রাজনীতিকরা একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। বলেছেন, পেশাজীবী সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান প্রেসক্লাবে হামলা হলে গণমাধ্যমকর্মীরা নিরাপত্তায় ভুগবে। সিসি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি সোচ্চার হয়। সমাবেশে বলা হয় এ ধরণের ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেনি। তবে, গত দুই যুগে খুলনার ৪জন সাংবাদিক দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হন। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি আজকের প্রজন্ম আর দেখতে চায় না।রোববার (২৬ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতি প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারকেকে হুমকি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সময়ের খবরের সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ দাবি করেন। খুলনা প্রেসক্লাব এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।বক্তারা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাবে এসে সভাপতি প্রার্থী ও প্রবর্তন সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ারকে খোঁজাখুজি ও হুমকি, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সময়ের খবরের সম্পাদক তরিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করায় নির্বাচন হুমকির মুখে পড়েছে।বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনা পরিকল্পিত। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে সিসি টিভি ফুটেজ থেকে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। তারা স্থানীয় সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক চন্দ্র সাহা, হারুনর রশিদ খোকন ও শেখ বেলাল উদ্দীনের হত্যার নিন্দা এবং সাংবাদিকতায় তাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।বক্তারা রবিবারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যারা প্রেসক্লাবে অনধিকার প্রবেশ করে সাংবাদিকদের হুমকি ও হামলা চালিয়েছে তাদের পাশাপাশি নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করতে হবে। কারা তাদের প্রেসক্লাবে পাঠিয়েছিল তা জাতি জানতে চায়।এদিকে সাংবাদিকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির কেউ যদি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মানববন্ধনে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চার জনের নাম উল্লেখ করে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি কেউ।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান এনামুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন রফিউল ইসলাম টুটুল, শেখ দিদারুল আলম, এস এম হাবিব, মোতাহার রহমান বাবু, মোস্তফা সরোয়ার, এস এম জাহিদ হোসেন, এহতেশামুল হক শাওন, আশরাফুল ইসলাম নূর, হাসান আহমেদ মোল্লা, হাসান হিমালয়, বশির হোসেন, হেদায়েত হোসেন মোল্লা, মুহা: নুরুজ্জামান, কামরুল আহসান, মহেন্দ্রনাথ সেন, মাহাবুবুর রহমান মুন্না, বেলাল হোসেন সজল, আব্দুর রাজ্জাক রানা প্রমুখ।মানববন্ধন চলাকালে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সমাবেশে বিএনপি নেতা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আরিফুজ্জামান অপু, শমসের আলী মিন্টু, জামাল মোড়ল, সরদার আবু তাহের, ইসলামী আন্দোলনের মো: নাসির উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।