ডেস্ক :
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও দরজা-জানালা বন্ধ রেখে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় এক পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র সচিবের শাসানোর অভিযোগ উঠেছে।রোববার (২৬ এপ্রিল) উপজেলার শঠিবাড়ী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র লিখছেন। বিশেষ করে ১টা ৯ মিনিটেও ৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীদের দেখে দেখে লিখতে দেখা যায়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত পরিদর্শক স্ট্যাপলার না আসার অজুহাত দিয়ে খাতা সংগ্রহে দেরির জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।মোমবাতি জ্বালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরাঅনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে একটি কক্ষে খাতা সংগ্রহে কিছুটা দেরি হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি।’রওশন হাবিব নামে এক পরীক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তাদের কক্ষের খাতা সময়মতো নেওয়া হলেও পাশের কয়েকটি কক্ষে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ করার সময় কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই ছাত্রকে ধমকাতে শুরু করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে কেন অনুমতি নেওয়া হয়নি—এই প্রশ্ন তুলে তিনি শিক্ষার্থীকে শাসাতে থাকেন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে কেন্দ্র সচিব তাদের বাধা দেন এবং নিজের কক্ষে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। পরে সচিবের কক্ষের সিসিটিভি মনিটরে দেখা যায়, এক পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কক্ষে গিয়ে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে দেখা যায়, ‘আরাফাত’ নামের একজন ব্যক্তি মেসেজের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে ৩০ বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর পাঠিয়েছেন। এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে চারটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সময় শেষ হওয়ার পরও দরজা-জানালা বন্ধ রেখে নকলের মাধ্যমে উত্তর লেখা হচ্ছে।এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। পরীক্ষা শেষে খাতা জমা নিতে যেটুকু সময় লাগে, তার বাইরে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’