ডেস্ক রিপোর্ট: গাজীপুরের ডিসি যোগদান করলেন হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের মা হারা এতিম কনের বিয়েতে। জেলা প্রশাসকের এমন ব্যতিক্রমি ও উদার আচরণে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি অচ্যুত খ্যাত হরিজনদের মধ্যে বয়ে যায় খুশির বন্যা। কেউ কেউ খুশিতে প্রণাম করতে থাকেন জেলা প্রশাসক সহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের।হরিজন সম্প্রদায় হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যাদের ঐতিহ্যগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে 'মেথর' বা 'ডোম' হিসেবে ডাকা হয়। সেই হরিজন সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া । এই ঘটনায় ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মানিবকতার প্রশংসা করেছেন। জেলা প্রশাসন থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের বিয়েতে ডিসির উপস্থিতি সমাজের তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দূর করতে এবং সব পেশার মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। জনপ্রতিনিধি বা উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করার ঘটনা এই দেশে খুবই বিরল। অনুষ্ঠানে ডিসি ছিলেন কনে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। কনে শ্রীমতী প্রীতি রানী বাসফোর এর পিতা শ্রী রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উনার স্ত্রী স্বর্গীয়া সীমা রানি বাসফোর গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা তাদের কন্যা প্রীতি রানি বাসফোরকে শিক্ষিত করেছেন এবং তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলছেন, যখন কোনো উঁচুতলার মানুষ বা জনপ্রতিনিধি সামাজিক মর্যাদায় পিছিয়ে থাকা মানুষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তখন তা সামাজিক সমতার বার্তা দেয়। এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক গাজীপুর বলেন, ‘আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সকলকেই সমান ভাবে আসীন করেছে। কাজেই আমরা সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে একত্রে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য, এ বার্তা সমাজের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পেশাই অমর্যাদার না, অসম্মানের না, কম গুরুত্বপূর্ণ নয়; এ কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই ও সবাইকে করাতে চাই।’