ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুরের পীরগঞ্জে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারল না মেধাবী শিক্ষার্থী তহিদুর ইসলাম। ছোট উজিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তৈয়বের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়েও প্রবেশপত্র হাতে পায়নি সে। জীবনের প্রথম বড় পাবলিক পরীক্ষায় বসতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে এই শিক্ষার্থী ও তার দরিদ্র পরিবার।ভুক্তভোগী তহিদুর জানায়, পরীক্ষার আগের দিন (২০ এপ্রিল) সে প্রবেশপত্র আনতে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, নামে ভুল থাকায় প্রবেশপত্র আসতে দেরি হচ্ছে। তবে তাকে আশ্বস্ত করা হয়, পরীক্ষার দিন সকাল ৮টার মধ্যেই সে প্রবেশপত্র পেয়ে যাবে। সেই বিশ্বাস নিয়ে আজ সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি বারবার তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।তহিদুরের বাবা রেজাউল করিম একজন দিনমজুর। অতি কষ্টে ছেলের ফরম পূরণের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা এবং রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৫০০ টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলের প্রবেশপত্রের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সহযোগিতা তো দূর কি বাত, উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলে ক্লাসের ফার্স্ট বয়, তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এক শিক্ষকের অবহেলায় আজ তার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় কোনো শিক্ষকই এ ধরনের সমস্যার কথা জানাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তহিদুরকে পরীক্ষায় বসানোর কোনো সুযোগ শিক্ষা অফিসের হাতে নেই, কারণ এটি সম্পূর্ণ শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ার। তিনি দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় এমন নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী তহিদুর ও তার পরিবার নিরুপায় হয়ে উপজেলা চত্বরের মূল ফলকের সামনে অবস্থান করছেন। তাদের একটাই দাবি—যে শিক্ষক একজন মেধাবী ছাত্রের শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে।সচেতন মহলের মতে, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বহীনতা কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নই ভাঙেনি, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।