হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি/সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাধীন চারদা বিল গ্রুপ (বন্ধ) নামক একটি সরকারি ইজারাকৃত জলমহালে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিন-রাত লাখ-লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এবিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই জলমহালের তীরবর্তী মামুদনগর স্বপ্নেরতরী মৎস্যবীজী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও জলমহালটির ইজারাদার জোবায়ের আহমদ বাদি হয়ে সমিতির সদস্য হাসান মিয়া গংদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে এ লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন।অভিযোগ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইর-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তর্গত "চারদা বিল গ্রুপ (বন্ধ) নামক সরকারি জলমহালটি" জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ওই জলমহালের তীরবর্তী মাহমুদনগর স্বপ্নেরতরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকুলে সমিতির সভাপতি জোবায়ের আহমদ গত ১৪২৯ বাংলা সন হইতে ১৪৩১ বাংলা সন পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য বাৎসরিক ৩৪ লক্ষ ১০ হাজার ৩৪৯ টাকা খাজনায় ইজারাপ্রাপ্ত হন। উক্ত জলমহালটি ইজারাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই ইজারাদার জোবায়ের আহমদ যথারীতি সরকারের বাৎসরিক ইজারার মূল্যের টাকা পরিশোধ করে জলমহালটি দখল বুঝে নিয়ে সেটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। এবারও তিনি জলমহালটির যথারীতি সরকারি খাজনার টাকা পরিশোধ করে সেটিতে লক্ষ-লক্ষ টাকার গাছের ডাল ও বাঁশ পুঁতে সারা বছর ২০ জন পাহারাদার নিয়োগ করে সেখানে মাছ রক্ষণা-বেক্ষণ করে আসছেন। এতে করে ওই জলমহালটিতে তাঁর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় সাধিত হয়েছে। এরই মধ্যে উক্ত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অন্তর্ভুক্ত হাসান মিয়া নামে এক সদস্যের সাথে নানা বিষয়াদি নিয়ে সমিতির অন্যান্য সদস্যদের বিরোধ দেখা দেয়। সদস্য হাসান মিয়া জলমহালটি নিয়ে তার হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য সে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্রের সাথে আঁতাত করে তিনি ইজারাপ্রাপ্ত সমিতির বিপক্ষে গত ২৬ জানুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য জলমহালটির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য একটি স্থগিতাদেশ জারি করান। এদিকে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ইজারাদার জোবায়ের আহমদ জলমহালটিতে তাঁর সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। আর এরই সুযোগে সদস্য হাসান মিয়া উচ্চ আদালতের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সে তার লোকজন নিয়ে জলমহালটি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে দিন-রাত ছোট-বড় জাল ও বিষ প্রয়োগ করে জলমহালটি থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে তারা আমাদের ওই জলমহালটির মারাত্মকভাবে ক্ষতি সাধন করছে।ইজারাদার জোবায়ের আহমদ বলেন, আমি জলমহালটির সরকারি খাজনা পরিশোধ করাসহ কাটা-বাঁশ ও সারা বছর পাহারাদার নিয়োগ করে প্রায় ১কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে জলমহালটিতে মৎস্য সংরক্ষণ করে আসছি। কিন্তু আমাদের সমিতির সদস্য হাসান মিয়ার সাথে নানা বিষয়াদি নিয়ে আমাদের বিরোধ দেখা দেয়। এতে করে তিনি আমাদের সমিতির সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখতে উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য একটি স্থগিতাদেশ জারি করান। কিন্তু আমরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে নিলেও তিনি নিজেই তা অমান্য করে তার লোকজনদেরকে দিয়ে প্রকাশ্যে ওই জলমহালটি থেকে দিন-রাত লাখ-লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুত জলমহালটি থেকে মাছ ধরা বন্ধ করা না হলে আমাদেরকে রাস্তায় বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা।জোবায়ের আহমেদের পার্টনার মো. আলম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসান মিয়া এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্রের যোগাসাজসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় আমাদেরকে হয়রানি করে সে জলমহালটি থেকে প্রতিদিন প্রকাশ্যে লক্ষ-লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জোবায়ের আহম্মদ বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও রহস্যজনক কারনে ওসি অভিযোগটি আমলে নিচ্ছেন না। অভিযুক্ত হাসান মিয়া বলেন, আমরার বিল আমরাতো মাছ ধরবোই। তবে গতকাল শুক্রবার ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা এখন বিল থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে দিছি।ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামূল হক বলেন, শুক্রবার দুপুরে ইউএনও স্যারের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদেরকে নিয়ে আমি নিজেই ওই জলমহালে গিয়ে হাসান মিয়াসহ তার লোকজনদেরকে ওই জলমহাল থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করে এসেছি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার নেতৃত্বে ওই জলমহালে পুলিশ পাঠিয়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষকেই আমার কাছে তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য নির্দশ দিয়েছি।