ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের সংসদের স্পিকার নুমান কুরতুলমুস। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন আইনের সমালোচনা করে তিনি এ দাবি জানান। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-এর ১৫২তম সাধারণ অধিবেশনে ইস্তাম্বুলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বর্ণবৈষম্যের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা-কে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল—যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কার্যকর ভূমিকার উদাহরণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই দেশে ফিলিস্তিনিদের জন্য এক ধরনের আইন এবং ইসরায়েলিদের জন্য আরেক ধরনের আইন প্রযোজ্য হওয়া বর্ণবৈষম্যের শামিল কি না। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ-এর ভূমিকাও সমালোচনা করেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত থামাতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে এবং বিশেষ করে গাজায় সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। নুমান কুরতুলমুস বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে জাতিসংঘ এখন এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের মুখে রয়েছে এবং সব রাষ্ট্রের সমান সার্বভৌম অধিকার থাকা উচিত।অধিবেশনের বাইরে তিনি খালিদ আল মাওয়ালি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি ওমান-এর মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন এবং পাকিস্তান-এ আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান, যাতে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা যায়।তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল-এর পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরান-এর উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। উল্লেখ্য, তুরস্ক চতুর্থবারের মতো এই সাধারণ অধিবেশন আয়োজন করছে, যেখানে প্রায় ১৫৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন