শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)//খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দীর্ঘ দিন ধরে । উপজেলার ৪টি তেল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে কিংবা অল্প তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে চলমান জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার চারটি পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণ।সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পগুলোতে তেল আসার আগেই শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল মিলছে। আবার ১০০-১৫০টি গাড়িতে তেল দেওয়ার পরই পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘স্টক শেষ’ বলে ঘোষণা দিচ্ছে, ফলে লাইনে থাকা অধিকাংশ মানুষই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।সাধারণ মানুষ জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন কাজ ও উপার্জনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে কোনো অসাধু চক্র বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, কোম্পানি থেকে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তারা সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের অনিয়ম রোধে সারাদেশে ব্যাপক অভিযান চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মোট ৫৩টি মামলা এবং প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।কৃত্রিম সংকট তৈরি (মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল নেই বলা), ওজনে কারচুপি এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে তেল বিক্রির মতো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।সরকার এপ্রিল মাসে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করেছে। ডুমুরিয়াসহ সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কঠোর তদারকির মাধ্যমে দ্রুত এই কৃত্রিম সংকট নিরসন হবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে। স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।