প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৪, ২০২৬, ১২:২৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটিতে ১০ দিনে সড়কে ২৭৪ প্রাণহানি
নিজেস্ব প্রতিনিধি সাদিয়া আক্তার:
ঈদ মানেই আনন্দ, প্রিয়জনের কাছে ফেরার উচ্ছ্বাস, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই এবার পরিণত হয়েছে শোকের মিছিলে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের ঢলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনা একটি নয়, দুটি নয়, দেশজুড়ে প্রতিদিনই ঘটেছে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা।পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে গত ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।এর আগে, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২৪৯ জন। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার সড়কে মৃত্যু বেশি।ঈদের ছুটি চলাকালীন সময়ে ২১ মার্চ দিবাগত রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাস ডুবে ২৬ জন নিহত হন।গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের সময় সড়কে গাড়ির বাড়তি চাপ থাকে, এতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই ঈদের সময় সড়ক ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।তবে এবার সড়কে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না বলেই দাবি করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যাই বলে দিচ্ছে এবার ব্যবস্থাপনা কেমন ছিল। ব্যবস্থাপনা যেটুকু ছিল, সেটিও ভেঙে যাচ্ছে।সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুসারে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করে দেশীয় সংস্থাগুলো। হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু এই হিসাবে আসে না।তবে সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোরালো উদ্যোগ নেই। মাঝেমধ্যে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হয়, কিছু জরিমানা হয়; কিন্তু পরিকল্পিত ও সমন্বিত কোনো কার্যক্রম চালানো হয় না।
Copyright © 2026 খুলনার সময়ের খবর. All rights reserved.
প্রিন্ট করুন
সেভ করুন