পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি:যশোরের কেশবপুরে ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইনে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত এলাকাবাসী হাসপাতালের নিচতলার রিসিপশনে ভাঙচুর চালায়। পরে প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হাসপাতালের বৈধ কাগজপত্র ও চিকিৎসক না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল বাসার মোল্লার নাতি আরিয়ান (৮ মাস) জ্বর ও সর্দিজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে কেশবপুর পৌর শহরের নতুন ব্রিজ এলাকার কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় হাসপাতালের মালিক ডা. ডি. এম. কামরুল ইসলাম বিদেশে অবস্থান করছিলেন। তিনি সরাসরি হাসপাতালে উপস্থিত না থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইনে শিশুটিকে চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণ পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।শিশুটির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র ভিডিও কলে চিকিৎসা দেওয়ার কারণেই তাদের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানালে হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে জড়ো হন এবং উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের নিচতলার রিসিপশন কক্ষের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেক্সোনা খাতুন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনের জন্য বলা হলে তারা সুনির্দিষ্ট কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা যায়। এছাড়া হাসপাতালটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন না।এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে কেশবপুর শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং হাসপাতালের বিলবোর্ড খুলে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ রেহেনেওয়াজ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এলাকায় উত্তেজনা বিরসজ করছে।এদিকে নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভুল চিকিৎসার কারণেই তাদের শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর কেশবপুর এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
ছবিঃ
১২/০৩/২৬