খুলনার সময়ে খবর ডেক্স :
পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার( ২২ জানুয়ারী) দুপুরে নেছারাবাদ উপজেলার সাবেক কাউন্সিলর উজ্জ্বলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বলকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের সমর্থক হিসেবে পরিচয় পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ছারছিনা দরবার শরীফের মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা শেষ করে কার্যালয়ে আসেন। এ সময় একদল ব্যক্তি অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
অভিযোগকারীদের দাবি, হামলাকারীরা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুমন মঞ্জুর ও সাবেক সংসদ সদস্য মহারাজের অনুসারী। হামলার সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে স্থানীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অভিযোগ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেব। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় প্রধানদের ছবি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বুধবার মাহমুদ হোসেনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।