
ফাতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা স্টাফ রিপোর্ট :
৩০ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০২৬ সাল। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও রাজনীতির এক অমোচনীয় অধ্যায় আজ শেষ হলো। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আজ আমরা হারালাম এক সাহসী নেত্রীকে
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ওগো আল্লাহ আপনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার সকল ভুলত্রুটি মাফ করে দিয়ে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন—আমিন। একই সাথে শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন আমীন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিনের বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অসুস্থতার পর তার মৃত্যু সংবাদ সারাদেশে শোকের ঢেউ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র-ছাত্রী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। নারায়ণগঞ্জের আইনের ছাত্র ফোরামের প্রথম সদস্য ফাতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রহিমা শরীফ মায়া, সোনারগাঁ থানা মহিলা দলের সভাপতি সালমা আক্তার, রূপগঞ্জ থানা মহিলা দলের সভাপতি হাওয়া বেগম এবং গোগনগর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি পপি হোসাইন সহ অনেকে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও দেশের জন্য অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন থাকা এই প্রবীণ নেত্রী পরিবার, রাজনৈতিক সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের পরিবেষ্টনে প্রাণত্যাগ করেন। তার জানাজা আজ সকাল বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর তাকে শ্রদ্ধাবনত শ্রদ্ধায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
শৈশব ও ব্যক্তিগত জীবন
বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে সৌন্দর্য ও চঞ্চলতার জন্য তাকে পরিবারে ‘পুতুল’ নামে ডাকা হতো। তিনি শিক্ষা জীবন শুরু করেন দিনাজপুরের সেন্ট জোসেফ’স কনভেন্ট ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আইএ (Intermediate in Arts) পাস করেন। যদিও পরবর্তীতে সারাদেশীয় রাজনৈতিক নথিতে তিনি ‘স্বশিক্ষিত (Self-Educated)’ হিসেবে উল্লেখিত ছিলেন, তার ত্যাগ ও অধ্যবসায়ে তিনি ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলেন।
১৯৬০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পরিবার সংগে দিনাজপুরেই প্রথম বসতি স্থাপন করেন। বিয়ের প্রথম দিনের পর থেকেই খালেদা জিয়া জীবন সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন এবং ঘর-বাড়ি, সন্তান ও সমাজের বিভিন্ন দিক সামলাতে সক্ষম হন।