সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে হেরিটেজ উৎসব ও বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রত্নসম্পদ এবং বহুমাত্রিক সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে উদযাপন করতে শুক্রবার দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে জাদুঘরের মূল্যবান সংগ্রহ থেকে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দশন প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শকদের বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিশেষ নিদর্শন উপস্থাপন করে। দিনের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সংস্কৃতির প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।উৎসবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হিসেবে ছিল সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নৃত্য, গম্ভীরা ও আলকাপ। এই আয়োজনের মাধ্যমে বরেন্দ্রভূমির আঞ্চলিক লোকসংস্কৃতির একটি অনন্য অভিজ্ঞতা দর্শকদের কাছে পৌঁছানো হয়।সকাল ১০টায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাবি উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা: ফরিদ উদ্দীন খান। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনেস্কো চেয়ার প্রফেসর রবিন কনিংহাম, ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টসের প্রফেসর শাহনাজ হুসনে জাহান এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বিশেষ বক্তব্য রাখেন।বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং ভিআরএম ক্যাপাসিটি স্ট্রেনদেনিং ফেইজ-২ এর সমন্বয়ক প্রফেসর কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বরেন্দ্রভূমির ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। বঙ্গীয় শিল্পকলার নিদর্শনের সংগ্রহের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর দেশের প্রথম জাদুঘর। জাদুঘরের সংগ্রহের অন্যতম অংশ হচ্ছে বরেন্দ্রভূমির বহুমাত্রিক ঐতিহ্যের নির্দশনসমূহ, যার নির্বাচিত অংশ আজ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই হেরিটেজ উৎসবের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত।”