সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার :রাজশাহী ওয়াসার অস্থায়ী (মাস্টাররোল) কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগসহ ন্যায্য দাবির বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে উপশহরস্থ ওয়াসা ভবনের সামনে ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল থেকেই ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে শতাধিক কর্মচারী সমবেত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। কর্মসূচি শেষে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসায় দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কেউ ১০ বছর, কেউবা ১৫-২০ বছর ধরে মাস্টাররোলে কাজ করলেও এখনও তাদের স্থায়ীকরণ করা হয়নি। অথচ হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে- সমপর্যায়ের সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দৈনিকভিত্তিক কর্মরতদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে।বক্তারা অভিযোগ করেন, পানি সরবরাহ, পাইপলাইনের জরুরি মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছে।তাদের ভাষায়, “এত বছর কাজ করার পরও যদি স্থায়ী হওয়া না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা কোথায় দাঁড়াব? ন্যূনতম ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।”মাস্টাররোল কর্মচারীদের দৈনিক মজুরি মাত্র ৪৫০-৫৫০ টাকা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারে এই আয়ে কোনো পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। একজন কর্মচারি প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা পরিশ্রম করেও মাস শেষে যে আয় হাতে পান, তা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাই কষ্টসাধ্য।মানববন্ধনে কর্মচারীরা স্লোগান দেন- “দুনিয়ার মজদুর এক হও”, “চাকরি নিয়ে তালবাহানা চলবে না”, “মৃত কর্মচারীর পরিবারের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে”, “স্থায়ীকরণ চাই- বেতন বৃদ্ধি চাই।” কর্মচারীদের ক্ষোভ, হতাশা এবং দীর্ঘদিনের দাবির প্রত্যাশা এসব স্লোগানে প্রতিফলিত হয়।কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সফিকুল আলম। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন কাজল, উপদেষ্টা নাসিম খান, আজিজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জনি, প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ঘোষণা দেন- “আমাদের দাবি কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়। হাইকোর্টের রায়ের আলোকে স্থায়ীকরণ করা সরকারের দায়িত্ব। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।”তিনি আরও জানান, আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিগগিরই বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।