নিজস্ব প্রতিনিধি সাদিয়া আক্তার :২০ শতাংশ বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবিতে টানা ৯ দিন ধরে আন্দোলন করছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। অবস্থান কর্মসূচির পর এখন তারা আমরণ অনশনে বসেছেন। একই সঙ্গে চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতিও। এতে সারাদেশের ৩০ হাজারেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা।শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের মুখে সরকার বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা) করেছে। রবিবার (১৯ অক্টোবর) এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষকরা এবার ক্লাসে ফিরে যাবেন। তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বানও জানান।তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সেই আহ্বান নাকচ করেছেন। তারা সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে কর্মসূচি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে সব শিক্ষক ঢাকায় চলে আসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে আমাদের সায় নেই। আমরা ৫ শতাংশের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছি। ২০ শতাংশের নিশ্চয়তা না নিয়ে শিক্ষকরা কোনোভাবেই ক্লাসে ফিরবে না।”তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমরা অবস্থান কর্মসূচি করছিলাম। অনশনও চলছিল। তবে এবার আমরা আমরণ অনশন করবো। পাশাপাশি আজ শিক্ষক সমাবেশ হবে, এতে সারাদেশ থেকে আসা লক্ষাধিক শিক্ষক অংশ নেবেন। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। যদি কোনো ধরনের হামলা হয়, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।”গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ওপর শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করেন এবং দুই মাসের আলটিমেটাম দেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাথাপিছু মাত্র ৫০০ টাকা হারে বাড়িভাড়া দিতে সম্মত হয়। বিষয়টি ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে জানাজানি হলে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।১২ অক্টোবর তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে জনভোগান্তি এড়াতে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন না জারি হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।